পঞ্চাশের দশকে আমরা

পঞ্চাশের দশকে আমি স্কুল ছেড়েছি, কলেজ ছেড়েছি, বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছি। কিন্তু যাচ্ছি আমি কোনদিকে? যাচ্ছি আমরা কোনদিকে? না, সেটা ঠিক জানা ছিল না।
তবে আমি মিছিলে গিয়েছিলাম। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল। তখনো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নই, ছাত্র আমি কলেজের, সেও এক অপরিচিত, ছোট্ট কলেজের, সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজের। যে কলেজ তখনো নটর ডেম কলেজ হয়নি, যার আমরা দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র। সে কলেজ তখন পুরনো ঢাকায় লক্ষ্মীবাজারের এক গলিতে, তার ছাত্রসংখ্যা তখন ৪০ জনের বেশি হওয়ার কথা নয় কোনো হিসাবেই। কিন্তু আমি কলেজ থেকে আসিনি সেই মিছিলে। কলেজে কোনোই আন্দোলন নেই, আমি এসেছি আজিমপুর থেকে, আজিমপুরে তখন কলোনি হয়েছে, ৫০০ সরকারি কর্মচারী থাকেন সপরিবারে, সেখান থেকে এসেছি আমি। আমি একাই। সভা হলো, সভা শেষে মিছিল হলো। সেই মিছিলে দেখি আমিও আছি। পরিচিত নবাবপুর, জেলখানার পাশের আবদুল হাসনাত রোড, সব সেদিন, সেই মিছিলে চলতে চলতে, কেমন নতুন, প্রাণবন্ত মনে হয়েছিল আমার। কাউকে চিনি না, অথচ অপরিচিত মনে হচ্ছে না কাউকে।
সেই আমার প্রথম মিছিলে যাওয়া। কিন্তু মিছিল তো তখন প্রায়ই হচ্ছে। আরমানিটোলায় জনসভা হয় বিরোধী দলের, সভা শেষে শোভাযাত্রা। জনসভায় মওলানা ভাসানী বক্তৃতা করেন। পঞ্চাশের দশক ভাসানীরই দশক আসলে। শেখ মুজিব আছেন, শেখ মুজিব বক্তৃতা করেন, মিছিলের সামনে থাকেন, বোঝা যায়, আগামী দিনগুলোতে তিনি আরো বড় ভূমিকা পালন করবেন। শামসুল হক আছেন, টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি, জিতে এমন ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন মুসলিম লীগকে যে তারা আর সাহস পায়নি দ্বিতীয় কোনো উপনির্বাচন দিতে। শামসুল হকও তীব্র ছিলেন, দরাজ ছিল তাঁর গলা। কিন্তু পরের বছরগুলোতে দেখেছি, তিনি কেমন যেন স্তিমিত হয়ে আসছেন।
সেই মিছিলে আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বলে খুব জোরে আওয়াজ করেছি। তারই মধ্যে অতি-উৎসাহী কেউ কেউ ওই স্লোগানের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে তারই প্রবলতার ভেতর থেকে স্লোগান দিয়েছে ‘বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই।’ আমি দেখেছি অলি আহাদকে, তিনি ছুটে এসেছেন, এসে থামিয়েছেন সেই ধ্বনি। কিন্তু ধ্বনি উঠেছিল, সেই ধ্বনি পরে ষাটের দশকে প্রবল হলো। সত্তরের দশকে সত্যি সত্যি বাংলা ভাষার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়ে গেল।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা মিছিল করে যাইনি। সলিমুল্লাহ হলের সামনে দিয়ে বেরিয়েছি; কিন্তু পরিষদ ভবনের সামনে দিয়ে যেতে পারিনি। পরিষদ ভবন মানে তো জগন্নাথ হলের মিলনায়তন, সব কিছুই কাছে কাছে তখন, পরিষদ ভবন পার হয়ে মেডিক্যাল কলেজ, তারপর কলা ভবন। দূরে নয় কোনোটাই, তখনো মেরুকরণ হয়নি, ঢাকা তখন অবিভক্ত শহর, তার নতুন ও পুরাতন নেই, সবটাই পুরাতন, ধনবৈষম্যও নেই তখন আজকের মতো দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপে। ১৪৪ ধারা ছিল, আমরা ঘুরে গিয়ে পৌঁছেছি কলা ভবনের সামনে। আমরা দু-তিনজন, আজিমপুরের বন্ধুরা। খেয়ে-দেয়ে বেরিয়েছি আমরা সারা দিনের জন্য, তখন তাই নিয়ম ছিল। ১০টা-৫টার সময়সূচি ছিল, খেয়ে-দেয়ে বের হতো সবাই দিনমানের জন্য। আমরা ভেতরে যেতে পারছি না। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে দেখেছি দলে দলে ছাত্ররা বের হচ্ছে আর পুলিশ তাদের ধরে ধরে তুলছে গাড়িতে। এক সময়ে দেখি ধাওয়া করেছে পুলিশ। ভেতরে ঢুকেছে। টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে। আমরা দাঁড়িয়েছিলাম খেলার মাঠের কাছে। সেখানেও দাঁড়ানো যাচ্ছে না। আমরা ঘোরাঘুরি করছি। এক সময় দেখি, চলে এসেছি কলা ভবনের পুকুরপাড়ে। কিছু একটা ভয়ংকর ঘটছে বুঝতে পারছি। কিন্তু গুলি হবে- এ আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। না, গুলির কোনো অভিজ্ঞতা তো ছিল না ঢাকাবাসীর। সেই প্রথম প্রকাশ্যে, আইন পরিষদের সামনে, মেডিক্যাল কলেজের প্রায় ভেতরেই গুলি হয়ে গেল।
তখন দেখি দ্রুত বদলে গেছে দৃশ্যপট। আতঙ্ক প্রথমে। পরে দেখি ছুটছে লোকে মেডিক্যাল কলেজের দিকে। হাজার হাজার মানুষ। তখন ঢাকায় এত লোক ছিল না আজ যেমন আছে। কিন্তু এত লোক এলো কোত্থেকে? আমরাও গেছি পেছনে পেছনে। পুরনো ঢাকার স্থানীয় লোকেরা যে রাষ্ট্রভাষার দাবির প্রতি এর আগে পুরোপুরি সমর্থন দিত, না নয়। তারা অনেকেই ভাবত তাদের ভাষা আলাদা, তারা উর্দু বলত এবং তাই নিয়ে অভিমান ছিল ভেতরে ভেতরে। কিন্তু আমরা দেখলাম, বদলে গেছে মানুষ। স্থানীয় লোকেরা বলছে এ কথা যে এমন তো হওয়ার কথা নয়। বলছে এমনও কথা যে ইংরেজরা গুলি করত পায়ের দিকে, এরা গুলি করেছে মাথা লক্ষ্য করে।
সারা শহর জেগে উঠেছে। আমরা ফিরে এসেছি আজিমপুরে। আমরা কী করব ভেবে পাচ্ছি না। ভেতরে ক্রোধ জ্বলছে। সন্ধ্যায় আমরা গেছি ‘আজাদ’ পত্রিকা অফিসে, আজাদ অফিস আমাদের কলোনির পাশেই। আমরা সম্পাদকের ঘরে গিয়ে হাজির হয়েছি। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ছবিটা। আমরা বলছি, খবর যেন ঠিকমতো ছাপা হয়। যেন গোপন করা না হয় সত্যকে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কাছে রোজ সকালে খবরের কাগজ বিলি হয় হকারদের মধ্যে। সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছি আমরা পরের দিন সকালে। দেখি সম্পূর্ণ উল্টো খবর ছেপেছে ‘মর্নিং নিউজ’ ও ‘সংবাদ’- সরকারি প্রেস নোটকেই খবর হিসেবে ছাপিয়ে দিয়েছে বড় বড় হেডিং দিয়ে। ঠিক কে, মনে নেই, আমাদের মধ্যেই একজন এগিয়ে গিয়ে ‘মর্নিং নিউজে’র গাদাটা তুলে নিল, আরেকজন নিল ‘সংবাদে’র গাদা, তারপর অতিদ্রুত কোথা থেকে দেশলাই এলো জানি না, দেখছি কাগজগুলো পুড়ছে। সেও নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য, আগুন জ্বালানো। তবু মনে হলো, কিছু একটা করেছি আমরা রাষ্ট্রভাষার জন্য। তারপর পিকেটিং করেছি পাড়ার সামনে, কেউ যেন অফিসে না যান। সেদিন করেছি, পরের দিন করেছি। স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা সব। আমরা ছোটাছুটি করি, গায়েবি জানাজায় যাই, মিছিল করি, যা করতে হবে শুনি তাই করি।
সেই একটা স্রোত, একটি নতুন স্রোত, পাকিস্তানি পরিচয়কে ছাপিয়ে উঠতে চাইছে বাঙালি পরিচয়, ‘বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই’ স্লোগানটা কেমন যেন অস্পষ্ট জাগছে আমাদের ভেতরে, আমাদের অজান্তেই, সব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, নিষেধাজ্ঞার ভেতরেও। রাজনীতি এসে গেছে আমাদের জীবনে। প্রত্যক্ষ রাজনীতি। শহীদ মিনার তৈরি হয়েছে রাতারাতি, সেখানে যাচ্ছে সবাই, মেয়েরাও যোগ দিচ্ছে, কে একজন মহিলা গলার হার খুলে রেখে দিয়েছেন হাতে-গড়া সেই শহীদ মিনারের কাছে। তারপর প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করছি আমরা, আমরা প্রভাতফেরিতে অংশ নিচ্ছি, আমরা খালি পায়ে হাঁটছি। এসব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নতুন আমাদের জন্য। রাজনীতি ও সংস্কৃতি মিশে যাচ্ছে। কত প্রচণ্ড হয়ে উঠছে মানুষের বিক্ষোভ, শাসকরা তা বুঝতে পারছে না। বুঝেছে বোধ করি শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে, যখন একেবারে ভরাডুবি হয়েছে তাদের।
কিন্তু এটাই একমাত্র স্রোত ছিল না আমাদের জীবনে। আরো একটা স্রোত ছিল, বরঞ্চ সেটাই ছিল স্বাভাবিক ও শক্তিশালী। সে আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত জীবনের স্রোত, যে স্রোত আমাদের ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে- বলছে, পরীক্ষায় ভালো করো, ভালো চাকরি-বাকরি পাবে, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দাও, একটা না একটা চাকরি জুটে যাবে তোমার। সেটা বিকল্প স্রোত নয়, মূল স্রোত। কোনদিকে যাচ্ছে জানি না। কিন্তু সেই স্রোত ঠেলছে আমাকে, ঠেলছে আমাদের প্রত্যেককে। তারই মুখে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে গেলাম ওই ১৯৫২তেই, শেষের দিকে।
কলেজে বড় মনমরা ছিলাম, ছোট কলেজ বলে। সে কলেজের একটা আকর্ষণ ছিলেন অজিতকুমার গুহ। তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু পড়াতেন এত ভালো, যেন মনে হতো, বেশি কেন ক্লাস থাকে না তাঁর। মাইকেলের কবিতা প্রথম দিনের ক্লাসেই আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন, শুনে চমকে উঠেছিলাম, অমিত্রাক্ষর কী বস্তু, সে তো আমরা আগে জানতাম না। কলেজে নাটক হয়েছিল, সেখানেও তিনি ছিলেন। কিন্তু নাটকটি ছিল ইংরেজি, শেকসপিয়ারের, একেবারে মূল ইংরেজিতে। ইংরেজ চলে গেছে কিন্তু ইংরেজি বড়ই প্রবলভাবে ছিল আমাদের জীবনে। এক বাংলা ছাড়া সব কিছুই তো আমরা ইংরেজিতে পড়তাম সেকালে। আমরা ইংরেজি খবরের কাগজ পড়তাম বাসায়, ‘পাকিস্তান অবজারভার’ ছিল আমাদের অবশ্যপাঠ্য, কলকাতার ‘স্টেটসম্যান’ পড়তাম পাওয়া মাত্রই। সেই ইংরেজি নাট্যাভিনয়ের প্রাণকেন্দ্র অবশ্যই ছিলেন অন্য একজন শিক্ষক, ফাদার মার্টিন, যিনি আমাদের ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন। অসম্ভবকে সম্ভব করলেন ফাদার মার্টিন, জনা চল্লিশেক ছাত্রের কলেজে পুরো নাটকটি করলেন, এক রাত নয়, দুই রাত, পর পর। সেজেগুঁজে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অনর্গল বলে গেলাম সেই আশ্চর্য সুন্দর সংলাপ। অস্বীকার করে লাভ নেই, ৫০ দশকে ওটাই একটা লক্ষ্য ছিল আমাদের জীবনের, অনর্গল ইংরেজি বলতে পারা। সেই ফাদার মার্টিন, তাঁর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ছিল আমার, তিনিই বড় একটা ধাক্কা দিয়েছিলেন আমাকে। মনে পড়ে সেই দৃশ্য। একুশে ফেব্রুয়ারি পর একদিন কলেজে গেছি, অ্যাডমিট কার্ড আনতে, তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছে আমার। অজিত গুহ জেলে চলে গেছেন। সে নিয়ে দুঃখ করছি আমি, কিন্তু তিনি দেখছি সাড়া দিচ্ছেন না তেমন এবং যা বলছেন আমতা আমতা করে, তার অর্থ দাঁড়ায় অজিত গুহ কমিউনিস্ট ছিলেন, আর কমিউনিস্টদের তো সরকার ধরবেই। আমি তাঁকে বলতে পারিনি যে আমিও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সমর্থক, আমরা সবাই সমর্থক। কিন্তু আমি বুঝেছি, আমরা দুজন বিভাজনের একটি নদীর দুই বিপরীত পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমি বুঝলাম, এই নদীর ওপরে কোনো সেতু তৈরি সম্ভব নয়। সে জন্যই আইএ পাস করার পর ফাদার মার্টিন যখন বললেন, ওই কলেজেই বিএ পড়, আমি তখন প্রায় দৌড়ে পালিয়ে এলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি কী পড়ব, তা জানতাম না। কিন্তু আমার আব্বা জানতেন। তিনি জানতেন অর্থনীতি পড়ব আমি, সেটাই তখন সবচেয়ে দামি বিষয়। তা ছাড়া তিনি জানতেন, আমি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেব। আমার মা-ও তাই জানতেন। আত্মীয়-স্বজন সবাই জানত। গোটা পরিবেশ জানত। আমরা সবাই তখন ভেতরে ভেতরে আমলা। সরকারি চাকরির বাইরে কী আছে, কী থাকতে পারে, আমাদের জানা ছিল না। পিতারা জানতেন না, ছেলেরাও জানত না। আমাদের বন্ধুদের ভেতর কেউ বড় ডাক্তার হয়েছে, কেউ বড় ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু সবাই আমলা আসলে ভেতরে ভেতরে। আমার স্কুলের বন্ধু লুৎফর রহমান খান, যার সঙ্গে ময়মনসিংহে অল্প কয়দিনের পরিচয়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়েছিল, কয়েক বছর আগে যে মারা গেল ক্যান্সারে, যার সঙ্গে একই বছর এমএ পাস করলাম আমরা, সে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, আমি ইংরেজিতে। তারপর একই সময়ে শিক্ষকতা শুরু করলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেও জানত কোথায় যেতে হবে। সে অনেক, অনেক কিছু জানত, আর জানত যে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হবে তাকে। দিল এবং ওপরের দিকে জায়গা পেল। আমি শুধু এটুকু জানতাম যে ওই পরীক্ষা আমার দেওয়া হবে না। একটা কারণ বোধ হয় ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয়। ঢাকা আমার ভীষণ ভালো লাগত। এখনো লাগে এবং নিতান্ত বাধ্য হয়ে সে কবছর খারাপই লেগেছে আমার, দূরে থাকতে হয়েছে বলে।
সে যাই হোক, আমি বাংলা পড়ব, আমার পিতা আমাকে অর্থনীতি পড়াবেন, এর মধ্যে সমঝোতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইংরেজিতে ভর্তি হলাম আমি। আমরা ১৯৫২ সালের পরের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের, তার প্রভাব পড়েছে আমাদের ওপর, যার জন্য প্রবল ওই সাহিত্যপ্রীতি।
কিন্তু রাজনীতিও টানে আমাকে। আমি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকি না, বাসায় থাকি, সেখানে পাড়ায় আমরা ছাত্রসংঘ করেছি। আমরা জন্মদিবস পালন করি বিভিন্ন কবির। সেখানে দেখি রাজনীতি আসছে। আমরা সুকান্তের জন্মদিবস পালন করতে চাই। আমরা ছায়ানাটক করি। আমরা পাঠাগার গড়েছি, তাতে পশ্চিমবঙ্গের বই পেলে যত্ন করে রাখি। বিশেষ করে রাজনীতির বই। কিন্তু সেসব বই পাওয়া যায় না। আমার খুব পছন্দ নাজিম হিকমতের কবিতা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস। আমরা অচুৎ গোস্বামী ও নরহরি কবিরাজের লেখা পেলে ভীষণ উৎসাহী হয়ে উঠি। ‘পরিচয়’ ও ‘নতুন সাহিত্যের’ প্রতিটি লেখা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। বিষ্ণু দের কবিতা ক্রমশ সহজবোধ্য হচ্ছে দেখে আমরা আশ্বস্ত বোধ করি, জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করি, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের গদ্যের বই হাতে রাখি আর প্রায় পাগল হয়ে যাই বুদ্ধদেব বসুর বই পেলে। আর আমার বন্ধু আফলাতুনকে রাগিয়ে দিয়ে ভীষণ আগ্রহে পড়ি আমি শিবরামের লেখা।
ঢাকায় তখন পত্রপত্রিকার নামগুলোই বলে দিচ্ছে সাংস্কৃতিক চেতনার স্তরটা কেমন ছিল। দৈনিক পত্রিকা তখন ‘আজাদ’, ‘ইনসাফ’, ‘মিল্লাত’। বিরোধী দলের পত্রিকার নাম ‘ইত্তেফাক’। প্রধান তিনটি মাসিক পত্রিকার নাম ‘মাহে নও’, ‘মোহাম্মদী’ ও ‘দিলরুবা’। পরে দৈনিক ‘ইত্তেহাদ’ বের হয়েছে। ‘সংবাদ’ যখন বের হলো তখন তা বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল তার নামের জন্য, ‘সমকাল’ বের হলে আমরা আশ্বস্ত হলাম খাঁটি বাঙালি একটি পত্রিকা পাওয়া গেল দেখে। আমরা তখন ইংরেজি বইয়ের দারুণ ভক্ত। কিন্তু সে বই আসে না তেমন। রেললাইন পার হয়ে সেই আরমানিটোলায় অবিশ্বাস্য রকম ছোট একটি ঘরে ছিল ‘ওয়ার্সী বুক সেন্টার’, আমরা সেখানে গিয়ে হানা দিই বিদেশি বইয়ের খোঁজে। টি এস এলিয়টের ‘সিলেকটেড এসেজ’ এলো যখন, আমরা যে কি হুড়োহুড়ি করে কিনলাম, সে দৃশ্য আজও দেখতে পাই সামনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে টার্নার সাহেব আমাদের মিল্টনের মহৎ জীবনদৃষ্টি বোঝান, কারো কাছে আমরা ইংরেজি শব্দের অর্থ শিখি, কারো কাছে উচ্চারণ। মনে পড়ে ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন একদিন বলেছিলেন, প্রাচীন এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে যে ব্যবধা,ন সেটা এখনো বেঁচে আছে আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবধানের মধ্যে। আমাকে নাড়া দিয়েছিল কথাটা, কেননা এটা ছিল পঞ্চাশ দশকের একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক বক্তব্য। আমাদের শিক্ষকরা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতেন, রুশ দেশে মানুষ খুব কষ্টে আছে, কেননা সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই। সৈয়দ আলী আশরাফ এসেছিলেন ক্যামব্রিজ থেকে ফিরে, মনে আছে তিনি কিটসের ‘ওড টু এ নাইটিঙ্গেল’ পড়িয়েছিলেন সম্পূর্ণ নতুনভাবে, যাকে বলে প্র্যাকটিক্যাল ক্রিটিসিজম, সেই পদ্ধতিতে। আর ছিলেন জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, যিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে ইংরেজি কবিতাকে পাশাপাশি রেখে পড়াতেন কখনো কখনো।
হল নির্বাচনে ভীষণভাবে লিপ্ত ছিলাম আমরা; সে ছিল আমাদের বার্ষিক উৎসব। ১৯৫২ সালের পরে
সলিমুল্লাহ হলে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর অনুপ্রেরণাটি এসেছিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ থেকে। আমরা দাবি করতাম, পরবর্তীকালে লীগবিরোধী যুক্তফ্রন্টের ধারণার সূতিকাগার ছিল হল নির্বাচনে আমাদের ওই যুক্তফ্রন্ট। আমাদের ভিপি ছিলেন শামসুল হক, যিনি যুক্তফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়ে পরে এমপি হন। সেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মধ্যে মোহাম্মদ সুলতানকে দেখেছি আমি। ‘গণতান্ত্রিক’ কথাটা তাঁরই সংযোজন। যুক্তফ্রন্ট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি চারপাশে দেখেছি তৎপরতা চলছে উপদলীয়। দলের ভেতর উপদল। এ জন্যই পরে যখন রাজনৈতিক যুক্তফ্রন্ট ভেঙে গেল তার অবিশ্বাস্য নির্বাচন বিজয়ের পর, তখন আমি মোটেই অবাক হইনি। আমার মনে হয়েছে, ছাত্রদের যুক্তফ্রন্টের যা ঘটেছে, বড় যুক্তফ্রন্টেও তাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করছিল দুটি প্রতিষ্ঠান। একটি রেডিও, অপরটি পত্রিকা। রেডিওতে প্রথম অনুষ্ঠান করেছি যখন, তখন আমি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার বন্ধু আবিদ হুসেন ছিল এক কাঠি ওপরে। রেডিওতে সে খবর পড়ত নিয়মিত। আজিমপুরেই, বাসার কাছে ছিল সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ এর অফিস। সেখানে একবার গল্প পাঠিয়েছিলাম অন্যের হাত দিয়ে। সে গল্প ছাপা হয়েছিল আর ছিল ‘আজাদ’ ও ‘মাহে নও’। আহসান হাবীব ছিলেন ‘আজাদ’ ও ‘মোহাম্মাদী’তে, তাঁর কাছে আমি গল্প নিয়ে যেতাম দুরুদুরু বক্ষে। যেতাম কবি আবদুল কাদিরের অফিসে, ‘মাহে নও’-এর জন্য গল্প নিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের রেডিও অফিসের সামনের রেস্টুরেন্টে দরবার বসত কবি ফররুখ আহমদের; আমরা চা খেতাম তাঁর চারপাশে বসে, আর শুনতাম নানা বিষযে তাঁর বক্তব্য। তখন মেরুকরণ ঘটেনি আজকের মতো- এ কথা বলেছি। সে কথাটা সত্য ছিল নানাদিক দিয়ে। আমরা সবাই তখন পাজামা-শার্ট পরি, একবার এক সহপাঠী ভুল করে লুঙ্গি পরে চলে এসেছিল কলাভবনে; পরে অবশ্য সংশোধন করেছে সে তার ভুল, কিন্তু পোশাকে তেমন বৈচিত্র্য ছিল না আমাদের। পুরান ঢাকায় আমরা বাসে যেতাম, নয়তো পায়ে হেঁটে হেঁটে। আমার মামা থাকতেন তেজগাঁয়ে; হেঁটে যেতাম সেখানে, গরুর দুধ ও খাঁটি হাওয়া খেয়ে ফিরতাম সন্ধ্যায়। রাস্তায় লোকজন ছিল কম। গাড়িঘোড়া আরো কম। ঘোড়ার গাড়ি উঠে যায়নি। রিকশা আসেনি এত অধিক সংখ্যায়। গ্রামের সঙ্গে যোগ ছিল ঘনিষ্ঠ। আমরা ছুটিতে গ্রামে যেতাম চলে, গ্রামের আত্মীয়রা আসতেন যখন তখন। ১২ টাকা মণের চাল ছিল বাজারে। টাকার ছড়াছড়ি ছিল না। মস্ত ধনী হওয়ার কথা প্রায় কেউই ভাবত না। গণ্ডিটা ছোট ছিল আমাদের।
কিন্তু সুযোগ ছিল বেশি। আমাদের সঙ্গের ছেলেরাই তো সবাই বড় বড় জায়গায় গেছে চলে। রেক্স রেস্টুরেন্টে চা খাওয়ার সময়ে (কত কম রেস্টুরেন্ট ছিল তখন ঢাকায়, কত কম ছিল সিনেমা হল) একদিন এক সহকর্মী বলেছিলেন আমাকে যে সামনের দিনগুলোতে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে নানা রকম দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। সত্যি সত্যি তাই ঘটেছে, তিনি নিজে অবশ্য একটু বেশি তৎপর ছিলেন যে জন্য আজ দেশে নেই, থাকেন আমেরিকায়। কিন্তু আমরা তো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হইনি, আজকের ছেলেমেয়েরা যেমন হচ্ছে। আমরা ভর্তি হয়েছি সহজে, আমরা বেকার থাকিনি কেউ। মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজে আমি চাকরি পেয়েছি এম এ পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই। কোনো অসুবিধা নেই, যেন লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছি বাসের অপেক্ষায় এবং স্থান আছে বাসে। আমার যে পরিচিত ছেলেটি মার্চেন্ট নেভিতে গিয়েছিল চলে, শিপিং কম্পানিতে এখন যে মস্ত চাকরি করে। আমাদের সহপাঠীরা বড় ব্যারিস্টার হয়েছে, হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছে, অ্যাডভাইজার হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে গেছে যারা তারা বড় পদে আছে। মোটামুটি আমরা আমরাই।
তাই কি? না, সর্বাংশে নয়। অনেকে পারেনি। ওই আজিমপুরে যারা বোনের কিংবা মামার বাসায় থাকত তারা অনেকেই হারিয়ে গেছে কে কোথায়। আর যারা মফস্বলে ছিল তারা কোথায় কে খবর রাখে! তা ছাড়া মেরুকরণ শুরু হয়ে গিয়েছিল। ক্রমশ গ্রাম থেকে সরে আসছিলাম আমরা। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ দেখতাম রাতের বেলা স্যুট পরে বের হচ্ছে, ভবিষ্যতের ড্রেস রিহার্সাল বুঝিবা! কেউ কেউ বিদেশে যাচ্ছে।
সেকালে আমরা সাংস্কৃতিকভাবে এগোচ্ছিলাম, বৈষয়িকভাবে যত এগিয়েছিল তার চেয়ে বেশি এগিয়েছি সাংস্কৃতিকভাবেই। তবে সাংস্কৃতিক চিন্তা স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে যাচ্ছিল। সেখানে অনিবার্য বিভাজন ঘটছিল। পূর্ব বাংলা পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেল একদিন, তার সঙ্গে চলল পাকিস্তানি সংস্কৃতির তৎপরতা। লিপি বদলের ষড়যন্ত্র। বিএনআরের কাজকর্ম। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন আসার পরে ‘পাকিস্তান লেখক সংঘ’ গঠিত হলো, যার আকর্ষণ দুর্নিবার হয়ে পড়ল আমাদের অনেকের জন্যই। এর বিপরীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারাও প্রবল হচ্ছিল, প্রকাশ্য হচ্ছিল ক্রমশ।
আরেকটি ঘটনা আমেরিকার প্রভাব। পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে এ প্রভাব দ্রুতগতিতে বাড়ছিল। আমরা দেখছিলাম, ইউএসআইএস নানাভাবে প্রভাবিত করছে বুদ্ধিজীবীদের। মুনীর চৌধুরী জেল থেকে বের হয়ে ইংরেজি পড়ালেন অল্প কয় দিন, তারপর চলে গেলেন বাংলায়। আমরা তাঁর প্রথম বক্তৃতাতেই মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। তিনি বন্ধুর মতো ছিলেন, শিক্ষক হয়েও। পরে যখন শিক্ষক হয়েছি আমি নিজেও, তখন শিক্ষকদের কমনরুমে তিনি ছিলেন একটি বড় আকর্ষণ। কিন্তু এক সময় রকফেলার ফাউন্ডেশনই তাঁকে বৃত্তি দিয়ে পাঠিয়ে দিলো আমেরিকায়। শোনা গেল এবং বোঝাও গেল যে আমেরিকানরা কৌশল বদলে ফেলেছে। এখন তারা বামপন্থীদেরকে বেছে বেছে বৃত্তি দেবে। দেখা গেল অর্থনীতির আবু মাহমুদও যাচ্ছেন চলে। কংগ্রসে ফর কালচারাল ফ্রিডম নিজের কর্মসূচি সম্প্রসারিত করে নিল। প্যাস্টেরনাকের ড. জিভাগো যখন নোবেল পুরস্কার পেলেন, তার কিছুদিন পরেই দেখি ও-বই এসে গেছে আমাদের নামে নামে, কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডমের সৌজন্যে; বইটি কমিউনিজমের সমালোচনা করেছে বলে। পঞ্চাশ দশকে ওই কমিউনিজম শব্দটি যত ভীতির সঞ্চার করত শাসকদের মনে, তত বোধ হয় আর কিছু নয়।
তবু যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিজয়ের পর কমিউনিস্টরা বেরিয়ে এসেছিলেন জেল থেকে। সরদার ফজলুল করিমকে দেখলাম আমরা সামনাসামনি। শহীদ সাবের এলেন আমাদের পাড়াতেই। রাজনৈতিকভাবে ওভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল দেশ। মেরুকরণও ঘটছিল। আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রথমে নাম থেকে ‘মুসলিম’ ফেলে দিয়ে হাল্কা হলো কিছুটা। তারপর আমেরিকার দিকে ঝোঁকা না ঝোঁকার প্রশ্নে দুই ভাগ হয়ে গেল। মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানকে অলাইকুম সালাম জানাতে হতে পারে বলে প্রবল ক্রোধ ও ত্রাসের সৃষ্টি করলেন শাসক মহলে। তিনি মনে হয় জানতেন, যদিও আমরা জানতাম না যে পূর্ববঙ্গ কোন দিকে এগোবে। তিনি সমাজতন্ত্রের কথাও বলতেন, যদিও সামনে বিশেষণ থাকত ইসলামী। ছিলেন প্রবলভাবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী।
পঞ্চাশের দশকে আমি তো গল্প লিখতাম। এক সময় দেখি আর গল্প লিখতে পারছি না। তার কারণ ছিল। কারণটা অভিজ্ঞতার অভাব। আমাদের বৃত্তটা ছিল ছোট। সেই বৃত্তের ভেতর দেখা দিয়েছিল বন্ধ্যত্ব। কারো একার নয়, সবার জন্যেই সত্য এটা। এই যে এতসব অগ্রগতি, এত রকমের উত্থান, সব কিছুর অভ্যন্তরে একটা বড় রকমের বন্ধ্যত্ব দেখা দিচ্ছিল। সেই বন্ধ্যত্বকেই আঘাত করেছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। মনে হয়েছিল বৃত্তটা ভেঙে যাবে। কিন্তু গেল না। যুক্তফ্রন্টের বিজয় হলো, কিন্তু যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকল না। ক্ষমতায় এলেন আইয়ুব খান। তিনি টাকা ঢাললেন প্রচুর, সুযোগ আরো বৃদ্ধি করে দিলেন, কিন্তু বন্ধ্যাত্ব আরো গভীর হলো।
অন্যরা যেমন যায়, তেমনি আমিও বিলেতে গেলাম ১৯৫৯ সালে। করাচি গিয়ে মনে হলো, সত্যি সত্যি ভিন্ন দেশে এসেছি। তার পরে বিলেতে থেকে অনেক জিনিস বুঝলাম, যা দেশে থাকতে বুঝিনি। সেখানে যার সঙ্গে দেখা হয়, আমরা পূর্ববঙ্গের কথা বলি। পশ্চিম পাকিস্তানিদের সঙ্গে ওঠা-বসা করি, কিন্তু বন্ধুত্ব হয় না। আরো স্পষ্ট করে ধরা পড়ল যে আমরা আসলেই বাঙালি, যে পরিচয় পাকিস্তানি পরিচয় দিয়ে অবলুপ্ত করা যাবে না, ১৯৫২ সালের আন্দোলন যে সত্যটা তুলে ধরেছে সে সত্যটা ক্রমশ বড় হয়ে আঘাত করবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তান যে শোষণের যন্ত্র, সেটা বিদেশে গিয়ে যতটা স্বচ্ছভাবে দেখতে পেয়েছি, ততটা দেশে বসে দেখা সম্ভব ছিল না।
পঞ্চাশের দশকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে যে যেদিকেই যাই না কেন, সমষ্টিগতভাবে এগোচ্ছিলাম একটি অনিবার্য লক্ষ্যপথেই- সেটি যুদ্ধ, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এগোচ্ছিল ‘বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই’ অভিমুখে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s