ঘরে ফেরা না-ফেরা

8_19311পাখির আছে নীড়, মানুষের রয়েছে ঘর। মানুষ তার ঘরে ফিরতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে ওই কাজটা সহজ নয়। অনেকের তো ঘর কী, বসবাস করার মতো একটি কামরাও নেই। তবু ঘরের আকাক্সক্ষার মতো, ঘরে ফেরার আকাক্সক্ষাও থাকে। সেটা বেশ প্রবল হয় ঈদের সময়। মানুষ ব্যাকুল হয়ে ওঠে ঘরে ফেরার জন্য। আর তখনই বেশ ভালোভাবে টের পাওয়া যায় যে কাজটা সহজ নয়। অভিজ্ঞতাটা অবশ্য প্রতিদিনের; যেমন দরিদ্রের তেমনি ধনীর। দরিদ্রদের জন্য যানবাহন অত্যন্ত অপ্রতুল, মধ্যবিত্তের জন্যও তা সত্য। ধনীদের আয়ত্তে ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে, গাড়ি নিয়ে তারা বের হয় কিন্তু বের হওয়াটা সহজ হয় না, কঠিন হয় ফেরাটাও। গাড়িই আটকে দেয় গাড়িকে; একের গতি প্রতিবন্ধক হয় অনেকের গতির, অনেকের গতি প্রতিরোধ করে একের গতিকে।ঈদে যে উপচে পড়া ব্যাকুলতা দেখি ঘরে ফেরার তাতে বোঝা যায় বিস্তর মানুষের ঘর নেই শহরে। হয়তো তারা কামরায় ভাগাভাগি করে মুখ গুঁজে বসবাস করে। যাদের কামরাও নেই তাদের কথা উঠছে না, তারা বাস, ট্রেন, লঞ্চের টিকিট খোঁজে না, যেমন ছিল তেমনই থাকে। শহরে বাসা আছে, ঠিক এক কামরায় নয়, তার চেয়ে প্রশস্ত একটু জায়গায়, তারাও কেউ কেউ ভাবে বাড়িতে ফিরবে, যে বাড়ি থেকে দূরে তাদের বসবাস।ঘরে ফেরা মানে বাড়িতে ফেরাই। কিন্তু ঘর তো বাড়ি নয়, তফাৎ আছে। ‘ঘরবাড়ি’ কথাটা একসঙ্গে যায় বটে, কিন্তু ঘরের সঙ্গে যে বাড়ি যুক্ত হয়ে আছে তাতেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ওই দুটি আলাদা জিনিস। ঘর যেমন কামরা নয়, তেমনি আবার বাড়িও নয়; অনেক ক’টি ঘর নিয়েই একটি বাড়ি। ব্যাপার আরও আছে; সেটা এই যে বাড়িতে আছে আশ্রয়, রয়েছে আÍীয়তা। থাকে ইতিহাস এবং পড়শিদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে তবেই একটি বাড়ি, যেটি ঘরের চেয়ে বড়, অনেক দিক দিয়েই।কত মানুষ আছে যারা ঘরবাড়ি ফেলে বিদেশে কাজ করে। ঈদেও তাদের ফেরা হয় না। তারা ইচ্ছে করেই বিদেশে গেছে। পরিশ্রম করে, উপার্জন করতে পারছে বলে কিছুটা সন্তুষ্টই থাকে, তাদের তুলনায় যারা যেতে চায় কিন্তু যেতে পারে না। না পারার বেদনাটা হা-হুতাশ হয়ে দেখা দেয়, এমনকি ঈদের দিনেও। দক্ষ মানুষ যায়, অদক্ষরা যায় আরও বেশি। মেধাবানরাও চলে যায়। আমরা বলি মেধা পাচার হচ্ছে; ব্যক্তিগতভাবে মেধাবানদের লাভ হচ্ছে হয়তো, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে দেশের। কিন্তু না গিয়ে তো উপায় নেই। জায়গা অল্প, সুযোগ কম, ঠাসাঠাসি, ঠেলাঠেলি অবস্থা। ঘরবাড়ি ভালো নেই, ভালো করা চাই।মেধাবানদের পক্ষে বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবু কেউ কেউ ফিরে আসেন, যেমন এসেছিলেন তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর। অত্যন্ত মেধাবান দু’জন মানুষ। খুবই সৃষ্টিশীল। একজন গিয়েছিলেন আমেরিকায়, অপরজন কানাডায়। সেখানেই থাকতে পারতেন ভালোভাবে। কিন্তু চলে এসেছেন। বাড়ির টানে নয়, দেশের টানে। দেশ অনেক বড়, বাড়ির তুলনায়। দেশের টান বাড়ির টানের তুলনায় তো দুর্দমনীয়। ওই টানের মুখে যে পড়েছে তার পক্ষে ফিরে আসা ছাড়া উপায় নেই।কিন্তু থাকতে পারলেন কই! সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জনই প্রাণ হারালেন। একত্রে। তারা ছবি তৈরি করছিলেন। সে কাজেই ঢাকার বাইরে গেছেন। পথিমধ্যে জীবনঘাতি ওই দুর্ঘটনা। ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল মানুষের আশ্রয়হীনতা। সাতচল্লিশে স্বাধীনতার নামে দেশ ভাগ হয়েছে। পরিণামে আশ্রয়হীন হয়েছেন বহু মানুষ। উৎপাটন ঘটেছে। ভেঙে গেছে পরিবার। দেশভাগের সেই মর্মবিদারী ঘটনাকে সেলুলয়েডে তুলে আনতে চেয়েছিলেন দুই বন্ধু ও সহকর্মী।তারেক মাসুদ পরিকল্পনা করেছেন, পরিচালনাও তিনিই করবেন। মিশুক মুনীর তার দক্ষ ক্যামেরায় ছবি ধারণ করবেন। এই ছিল আয়োজন। তারেক এর আগেও একাধিক ছবি করেছেন, ওই আশ্রয়হীনতা নিয়েই। যেটা ঘটেছে একাত্তরে। সেবার আমরা স্বাধীন হয়েছি দ্বিতীয়বারের মতো। প্রথম স্বাধীনতা নিয়ে ছবি করবেন আশা করেছিলেন তারা। পারলেন না। চলে গেলেন, না ফেরার দেশে মিশুকের পিতা মুনীর চৌধুরী শহীদ হয়েছেন একাত্তরে, পাকিস্তানি রাষ্ট্রের চোখে তিনি মস্ত বড় অপরাধী ছিলেন, কেননা তিনি মানুষের মুক্তির পক্ষে ছিলেন, আগাগোড়া।ব্যর্থতা আমাদের রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। রাষ্ট্র তা দেয়নি। সাতচল্লিশের স্বাধীন রাষ্ট্র মানুষের নিরাপত্তা দেয়নি, বরঞ্চ পূর্ববঙ্গবাসীকে শোষণ করেছে, যে জন্য একাত্তরের স্বাধীন অত্যাবশ্যক হল। কিন্তু এই নতুন রাষ্ট্রও পুরনো রাষ্ট্রের মতোই ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পারছে না, পারেনি। কোথাও মানুষ নিরাপদ নয়। বিশেষভাবে অনিরাপদ হবে সড়কগুলো। সেখানে বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণের অভাব, দুর্বৃত্তদের (বেসরকারি এবং সরকারি) উৎপাত, সবই আছে; অভাব শুধু স্বচ্ছন্দে চলাফেরার সুযোগের। প্রতিদিনই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। মৃত্যু নয়, যেন হত্যাকাণ্ড। নিহত হয়েছেন তারেক ও মিশুক। অকালে ঝরে গেছে দুটি প্রতিশ্র“তি।সাতচল্লিশে তৈরি স্বাধীন রাষ্ট্র যে মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল না, বরঞ্চ মানুষের স্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছিল সে সত্য উদঘাটনে খুব একটা সময় লাগেনি। পূর্ববঙ্গের অধিবাসীরা বিদ্রোহ করেছে। যে বিদ্রোহে বহু মানুষ নানাভাবে অংশ নিয়েছেন। মূল ভূমিকাটা সাধারণ মানুষেরই। তাদের উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকাটা ছিল অগ্রগামী পথিকের। ২৫ মার্চের মধ্যরাতেই চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা পাকিস্তানি রাষ্ট্রের নৃশংসতাকে মেনে নেবেন না। ওই রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্রগুলোর ভেতরে যেটি সবচেয়ে সোচ্চার বেতার ছিল তার সঙ্গে যুক্ত থেকে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন; এখন পূর্ববঙ্গের জনগণের ওপর যে গণহত্যা নেমে আসছে বলে তারা টের পেলেন সেটাকে মানতে তারা যে কেবল অসম্মত হলেন তাই নয়, নীরবে বিদ্রোহ করে কালুরঘাটে বেতারতরঙ্গ প্রেরণ কেন্দ্রে একটি বেতার কেন্দ্রই চালু করে ফেললেন। এই অসামান্য সাহসী ও উদ্ভাবনশীল মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন, ৩০ জুন বিদায় নিলেন বেলাল মোহাম্মদ। হানাদার বাহিনী বেতার কেন্দ্রটি তিন দিন পর আকাশ থেকে বোমা ফেলে অচল করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু যে বীজটি সেদিন কালুরঘাটে বপন করা হয়েছিল পরে তা বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।বেলাল মোহাম্মদ ও তার সঙ্গীরা যে কাজটি করেছিলেন সেটা অসাধারণ ছিল না, ছিল বৈপ্লবিক। বেতার কেন্দ্রের নামও তারা সঠিকভাবে দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র। কেবল স্বাধীন নয়, বিপ্লবী। নামে ‘বিপ্লবী’ অংশটি অবশ্য টিকে থাকেনি। হানাদারদের বোমাবর্ষণের আগেই বিপ্লবী পরিচয়টি মুছে ফেলা হয়েছিল। ঘটনাটা ঘটেছিল তাদের পরামর্শে যারা স্বাধীনতা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিপ্লব ছিল তাদের জন্য অনভিপ্রেত।পরে ওই বেতার কেন্দ্র বড় হয়েছে, তার কার্যক্রম ও প্রচারপরিধি বিস্তৃত হয়েছে; কিন্তু সূচনাকালের বিপ্লবী পরিচয়টি আর ফেরত আসেনি। না আসাটাই ছিল স্বাভাবিক। কারণ যারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা বিপ্লবপথের পথিক ছিলেন না, তাদের ভাবনাটা ছিল স্বাধীনতা নিয়েই।স্বাধীনতার পরের ঘটনাও ওই একই। অভিন্ন রাজনৈতিক স্বাধীনতা এলো, কিন্তু বিপ্লব ঘটল না। মানুষের মুক্তির জন্য যা প্রয়োজন ছিল তা হল সামাজিক বিপ্লব। সেটি সাতচল্লিশের পরে সম্ভব হয়নি, সম্ভব হল না একাত্তরের পরও। রাষ্ট্রক্ষমতা যে শ্রেণীটির হাতে চলে গেল তারা সামাজিক বিপ্লব চায়নি, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীন হর্তাকর্তা হতে চেয়েছে। রাষ্ট্রের নাম বদলাবে, তার আয়তনে পরিবর্তন আসবে, শাসনকর্তাদের বাইরের চেহারাটাও হবে ভিন্ন ধরনের, কিন্তু তার ভেতরের চরিত্রটা থাকবে আগের মতোই, এটাই ছিল নেতৃত্বের আকাক্সক্ষা। রাষ্ট্র তাই বদলেও বদলালো না। সে রইল পুরনো সমাজকাঠামোর পাহারাদার হয়েই, আগে যেমনটা ছিল। অচিরেই দেখা গেল যে, এ রাষ্ট্র আগের যে দুটি রাষ্ট্রের অধীনে আমরা ছিলাম, একটি ব্রিটিশের অপরটি পাকিস্তানিদের, তাদের তুলনায় ভিন্ন নয়। এ রাষ্ট্র আরও নির্মম হাতে শাসকদের শ্রেণীগত স্বার্থকে রক্ষা করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ।বেলাল মোহাম্মদের স্বপ্ন ভঙ্গ হতে বিলম্ব ঘটেনি।দেশ স্বাধীন হল কিন্তু যে বিপ্লবের জন্য তারা কাজ করবেন বলে নিজেদের প্রাণকে বাজি রেখে পথে নেমেছিলেন তার কোনো সম্ভাবনাই দেখা গেল না। জীবিকার জন্য তাদের আবার সেই রাষ্ট্রীয় বেতার কেন্দ্রের কাছেই যেতে হল। সে বেতার কেন্দ্র আগের মতোই রাষ্ট্রের যেটা আদর্শ তা-ই প্রচার করা শুরু করে দিল। রাষ্ট্রের আদর্শ সমাজ বিপ্লবের পক্ষে নয়, সে আদর্শ উল্টো তাকে প্রতিহত করার। এই রাষ্ট্রের দীক্ষাও আগের দুটি রাষ্ট্রের মতোই পুঁজিবাদেরই। জনমুক্তির বিরোধী পুঁজিবাদী আদর্শের প্রচারে বিপ্লবী বেলাল মোহাম্মদকে পুনরায় যোগ দিতে হয়েছে মাথানত করে। যদি বিপ্লবী রাজনীতির সন্ধান পেতেন তবে তার সঙ্গে থাকতেন, বিপ্লবী আন্দোলন থাকলে তাতে যোগ দিতেন। কিন্তু তাদের সন্ধান তো পাওয়া যায়নি। ওদিকে বাড়ির সমস্যা তো ছিলই। স্বাধীনতার পরের বছরই বেলাল মোহাম্মদের স্ত্রী বিয়োগ ঘটল, একমাত্র সন্তানটিও চলে গেল কয়েক বছর পর। তিনি কেবল একাকী নয়, নিঃসঙ্গও হয়ে পড়লেন।তবু বেলাল মোহাম্মদ নিজের মতো করে কাজ করে গেছেন। বই লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টায় কোনো ত্র“টি রাখেননি। অনেককেই তিনি আপন করে নিয়েছেন। তার অনুরাগীর অভাব ছিল না। তিনি কবিতা লিখেছেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করেছেন সেটি হল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাকালের ইতিহাসটি আমাদের জন্য লিখে রেখে গেছেন। ওই বেতার কেন্দ্রের ওপর অনেক লেখা পাওয়া গেছে, কিন্তু সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বইটি বেলাল মোহাম্মদের। বইটির প্রকাশক পাওয়া সহজ হয়নি, প্রকাশের পরও ঝুঁকির মুখে ছিলেন। কেননা স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের অত্যন্ত জরুরি ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল তার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ তার বইতে পাওয়া গেছে। ওই বিবরণ আমাদের বিবদমান দুই রাজনৈতিক দলের কারোই মনঃপূত হয়নি।জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন। স্বাধীনতা পদকটি তিনি বাংলাদেশ বেতারকে অর্পণ করেছেন এবং পুরস্কারের টাকা থেকে নিজের গ্রামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাঠাগারের নাম রেখেছেন কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মোজাফফর আহমদের নামে, যিনি তার এলাকাতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। নিজের মরণোত্তর দেহটি দান করে গেছেন চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য। সমাজ বিপ্লবের দিকে তার ঝোঁকটা মোটেই অস্পষ্ট ছিল না।আমার এক অতি নিকট-আত্মীয়, একে আজিমুল হক চলে গেলেন দু’সপ্তাহ আগে। তিনিও রাষ্ট্রকে চিনেছিলেন একেবারে ভেতর থেকেই। কেননা সরকারি কর্মচারী ছিলেন, প্রথমে পাকিস্তানের পরে বাংলাদেশের। তার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় জীবনের এক ক্রান্তিকালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হিসেবে প্রবেশের সময়। তখন তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের লেকচারার। সেটি ১৯৫২ সালের ঘটনা। আমাদের ধারণা ছিল তিনি সেখানেই থাকবেন। কিন্তু পারেননি। রাষ্ট্র তাকে টেনে নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে তখন বেতন ছিল অল্প, নিরাপত্তাও ছিল কম। তদুপরি আজিজুল হক সাহেব ছিলেন পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র, তাই পারিবারিক দায়িত্ব বহন ছিল অপরিহার্য। তিনি একা নন, তার সময়ে তো অবশ্যই, তার পরেও অনেক নবীন শিক্ষকই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যেতেন, যেমনটা তিনি গিয়েছিলেন। অধিকাংশই যেতেন সন্তুষ্টি চিত্তে, আমার এই আত্মীয়টির ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটি ঘটেনি। মনেপ্রাণে তিনি ছিলেন গ্রন্থজগতের মানুষ। বই পড়তে যত আনন্দ পেতেন তেমন আনন্দ অন্য কিছুতে পাননি। সে জগতেই ছিল তার স্বাধীনতা। চাকরি জীবনের প্রথমটা কেটেছে তার পশ্চিম পাকিস্তানে। এখানে পাঞ্জাবি আমলাদের একক কর্তৃত্ব দেখেছেন। চাকরিতে তার উন্নতি ঠিকই ঘটেছে। সাহিত্যের ছাত্র, সরকার তাকে পাঠিয়েছিল ম্যানচেস্টারে উন্নয়ন অর্থনীতি পড়তে। সেখান থেকে সসম্মানে মাস্টার্স করে এসেছেন, অনায়াসে পিএইচডি করতে পারতেন, সরকার যদি বৃত্তির কাল বাড়িয়ে দিত কিন্তু বৈরী রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক সেবাতে তার মন ছিল না। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় আসেন বদলি হয়ে, আর ফেরত যাননি। চাকরিকালে সেটি ছিল তার জন্য কিছুটা সন্তোষের বিষয়।ঊনসত্তর ছিল অস্থিরতাবোধের এবং স্বপ্ন দেখার সময়। দেশ স্বাধীন হবে এ স্বপ্ন তিনিও দেখতেন। যেমন দেখতেন সরকারি কর্মচারীদের অনেকেই। তার এক বন্ধু তার মতোই সরকারি কর্মচারী, ঢাকায় এসেছিলেন বদলি হয়ে; তিনি পাঞ্জাবি আমলা ও সেনাবাহিনীর প্রকাশ্যেই সমালোচনা করতেন। আমার আত্মীয়টির সমালোচনা সেরকম মুখর ছিল না; কিন্তু তিনিও একই রকম বিক্ষুব্ধ ছিলেন পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর। সরব ছিলেন না বলেই প্রাণে বেঁচে গেছেন, নইলে ওই বন্ধুর মতোই তিনিও প্রাণ হারাতেন, যাক স্বাধীনতার তিন দিন আগে রাজাকাররা ধরে নিয়ে গিয়েছিল নিজে অফিস থেকেই। আজিজুল হকও বিপদের ভেতরই ছিলেন। একাত্তরে তিনি ছেলেমেয়েদের পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে। স্বামী-স্ত্রী ঢাকায় থাকতেন, সার্বক্ষণিক উদ্বেগের ভেতর। যে বাসায় থাকতেন সেটি ছিল আওয়ামী লীগের একজন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যের। সে ভদ্রলোক তার সঙ্গে গোপনে দেখা করে বলে গেছেন বাড়ির ভাড়াই তার পরিবারের জন্য একমাত্র আয়ের উৎস, ওটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ভীষণ সংকটে পড়বেন। আজিজুল হক সাহেব ওই বাসাতেই থাকতেন; প্রতি মাসে বাড়ির মালিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাড়া পৌঁছে দিতেন নিয়মিতভাবে।দেশ স্বাধীন হলো। নতুন রাষ্ট্রের জন্য গভীর ভালোবাসা ও মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু করলেন। পদোন্নতিও ঘটল, কিন্তু অচিরেই পড়লেন আশাভঙ্গের মর্মবেদনায়। দেখলেন পরিবর্তন যেটুকু তা ভালোর দিকে নয়, রাষ্ট্র বরং উল্টো দিকে চলছে। চাপ এবং তদবির আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেল। তিনি অনড় থাকতেন। সে জন্য স্নায়ুবিক চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকল। উচ্চ রক্তচাপে ধরল। সেই চাপ কমেনি, বেড়েছেই, ক্রমাগত। অসুস্থ বোধ করতেন, মনে যেমন তেমনি দেহে। তার চিকিৎসক পুত্র বলেছে, উচ্চ রক্তচাপের দরুনই তার কিডনি আক্রান্ত হয়েছিল। আর কিডনির অসুখই তার মৃত্যুর কারণ।স্বাধীন রাষ্ট্রের অধীনে সমাজের চেহারা যে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে সে কথা তিনি বলতেন। অতিকথনের মধ্য দিয়ে নয়, কৌতুকের সঙ্গে। বাজারে যেতেন নিয়মিত। শোনেন মাছওয়ালা বলছে, ‘নিয়ে যান স্যার, ওরিজিন্যাল পাঙ্গাশ।’ বুঝেছেন, এবং বলেছেন আমাদেরকে যে, ভেজালকে আর ঠেকানো যাবে না। সপরিবারে গ্রামে গেছেন, শোনেন সন্দেহের গুঞ্জন উঠেছে, তিনি বোধ হয় ইলেকশনে দাঁড়াবেন। টের পেলেন মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা যাচ্ছে কমে। গ্রামে গিয়ে আরেকবার প্রায় বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা হয়েছে। শিক্ষিত বেকার এক যুবক এসে অনুরোধ করেছে তাকে চাকরি দেওয়া চাই। ও কাজে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন না, তাই সাড়া দেননি। ক’দিন পরে দেখেন এক চিঠি এসে হাজির। যুবক লিখছে, চাকরি না দিলে সে তার সরকারি গাড়ির সামনে গড়িয়ে পড়ে আÍহত্যা করবে। শুনে কিছুটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন এবং সম্যকরূপে অবহিত হয়েছিলেন কর্মসংস্থানের ব্যাপারে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বিষয়ে।মেধাপাচারের যে সে াত বইছিল তাতে তার চার ছেলেমেয়ের সবাইকেই বিদেশে যেতে হয়েছে। ততদিনে তার স্ত্রীও পরলোকগত হয়েছেন। দেখেন তিনি একা। শেষ পর্যন্ত, তাদেরও রওনা হতে হয়েছে, আমেরিকাতে সন্তানদের কাছে। সেখানে তার বেশির ভাগ সময় কাটত বই পড়ে। প্রয়োজন ছিল চিকিৎসার, যেটি ব্যয় ও গুণ উভয়দিক থেকেই অসম্ভব ছিল ঢাকায়। কিন্তু প্রায় সর্বক্ষণই ঢাকার কথা ভাবতেন। প্রতি বছর ফেব্র“য়ারিতে তাকে আমরা ঢাকায় পেতাম। একটা কারণ আমেরিকার শীতের প্রকোপ এড়ানো; অন্যটি, যেটিকে প্রেরণাও বলা চলে, ফেব্র“য়ারিতে ঢাকায় থাকার ইচ্ছা। বইমেলা থেকে বই সংগ্রহ করতেন। প্রথম জিজ্ঞাসাটাই থাকত নতুন কী কী বই বের হয়েছে। পছন্দ করতেন আÍজীবনীমূলক বই, যেখানে সমাজ ও রাষ্ট্রের রদবদলের কথা থাকত। এবারও এসেছিলেন। ফেব্র“য়ারিতে পারেননি, পরে এলেন, উঠলেন কনিষ্ঠ পুত্রের বাসায়। যে বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি নিয়েছে ঢাকাতে। এবার আর চলাফেরা করার অবস্থা ছিল না। অর্ধচেতন অবস্থায় জানতে চাইতেন ঢাকার খবর কী। মনে করতেন ঢাকার বাইরে আছেন। সেই ঢাকাতেই রয়ে গেলেন, চিরকালের জন্য।তিনটি রাষ্ট্রই দেখা হয়েছে তার, পর্যায়ক্রমে; কিন্তু হায়, কোনো রাষ্ট্রই যে স্বাধীনতা দিয়েছে মানুষকে এমনটা দেখতে পাননি। মুক্তি তো দূরের কথা।আরও একজনের কথা লিখতে হয়। আত্মীয় ছিলেন না; বন্ধু ছিলেন তিনি অনেকেরই, আমারও। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে তো ছিলেনই। এমনভাবে ছিলেন যে হানাদার বাহিনী তার খোঁজ করেছে। সময়মতো আত্মগোপন করতে পেরেছিলেন, নইলে একাত্তরেই প্রাণ হারাতেন। আলবদররা তো বটেই, সেটা পরের ঘটনা, আর্মিও তাকে চিহ্নিত শক্র হিসেবে গণ্য করেছে। অথচ তিনি রাজনীতির নন, ছিলেন সংস্কৃতি জগতের অধিবাসী।তার নামের উল্লেখ বাদ থাকুক, সংকোচ আসে, রয়েছে বেদনাও। না, স্বাধীন নতুন রাষ্ট্র তার সঙ্গে প্রত্যক্ষে যে বৈরী আচরণ করেছে তেমন নয়; কিন্তু রাষ্ট্রের যে পুঁজিবাদী আদর্শ সেটি এমন অধিকাংশ মানুষের জন্যই মিত্র ছিল না, তেমনি মিত্র ছিল না তার জন্যও। এই সত্যটা বিশেষভাবেই প্রকাশ পেয়েছে তার প্রয়াণের পর। যত্নসহকারে তিনি মনের মতো এবং চমৎকার একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সে বাড়িতে তার বেশি দিন থাকা হয়নি, অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে। তার সন্তানরা মেধাবী এবং যেমনটা ঘটে, ঘটা স্বাভাবিক, তেমনি তাদের একাংশ চলে গেছে বিদেশে, অপরাংশ দেশে আছে। আমার বন্ধুটির স্ত্রী উচ্চশিক্ষিতা, কর্মজীবনে তিনি উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছেন পেশাগত দক্ষতার কারণে। স্বামীর প্রয়াণে তিনি স্বভাবতই বিপর্যস্ত বোধ করছিলেন। কিন্তু যে খবর কিছু দিন আগে শুনলাম সেটা প্রথমে বিশ্বাস্য মনে হয়নি, পরে জেনেছি অবিশ্বাসের কারণ নেই। সেটা হল নিজের ঘরবাড়ি ফেলে তিনি গিয়ে উঠেছেন এক বৃদ্ধাশ্রমে। যারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এ ঘটনার আকস্মিকতায় ও অস্বাভাবিকত্বে হাসিমুখে তাদেরকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি ভালো আছেন এবং স্বাধীনতা উপভোগ করছেন। স্বাধীনতা বাড়িতে নয়, ঘরেও নয়, এসে ঠেকেছে একটি কামড়াতে। বৃদ্ধাশ্রমের ওই কামরা এবং তার সংলগ্ন স্বাধীনতার স্বরূপটি কী সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছুটা অবহিত। ব্যবস্থাপনাটা ঠিক হাসপাতালের নয়, আবার ঠিক কারাগারেরও বলা যাবে না, দু’য়ের মাঝামাঝি। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল একজন মানুষের জন্য স্বাধীনতা ওইখানেই এবং ওই টুকুতেই এসে পৌঁছল।ঘটনার হিসাব করে যে শেষ করব সে উপায় নেই। উন্নতি ঘটেনি এমন অলুক্ষণে কথা কে বলবে? তবে সত্য হল এটাও যে, কামরা নেই অনেকেরই, ঘর নেই বহুজনের, বাড়ি আছে এমন মানুষের সংখ্যা অতি অল্প। যাদের ঘরবাড়ি আছে তাদের পক্ষেও সেখানে ফেরাটা সহজ নয়। যারা বিদেশে থাকেন তাদের অনেকের মধ্যেই দেশের টান রয়েছে। যারা বহুদিন ধরে আছেন, থাকতেই হবে, তাদের সন্তানদের ভেতর দেখা দিয়েছে আÍপরিচয়ের সংকট। তাদের কেউ কেউ দেশ কখনো দেখেইনি। যারা দেখেছে তারা আকর্ষণ বোধ করেনি। পিতামাতা এবং পূর্বপুরুষের কষ্টে ও সঞ্চয়ে তৈরি বাড়িঘর আছে, সেগুলোর বাজারদর এখন আকাশচুম্বী, এসবের আকর্ষণও তাদেরকে টানে না। তারা ভাবে দেশে ফিরলে আর যাই পাওয়া যাক চলাফেরার স্বাধীনতাটুকু পাওয়া যাবে না। সে অভিজ্ঞতাটা বিমানবন্দরে নেমেই তারা লাভ করে ফেলে। তারপর ঠেলাধাক্কার মধ্য দিয়ে বের হলে দেখতে পায় সমস্যাটা। দেশজুড়ে আরজকতা, যেন মানুষের মাথা মানুষ খাবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সহিংসতা, গুম হয়ে যাওয়া এসবের বিবরণ শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এক সময়ে যেখান থেকে এসেছিল সেখানেই ফিরে যায়, যাওয়ার সময় পণ করে বাড়িঘর যতই মূল্যবান হোক স্বাধীনতা অনেক বেশি জরুরি। ঠিক করে আর ফিরবে না, বেড়াতে হলে বরং অন্য দেশে যাবে। বাড়িঘর তাদের বিদেশেই।বাড়িঘরের আরেকটি তাৎপর্য হচ্ছে ওই আত্মপরিচয়। বাঙালির জন্য বাঙালি হিসেবে আত্মপরিচয় দান এখন আর আগের মতো সম্মানজনক নয়। সেখানেও ব্যর্থতা সেই নন্দ ঘোষেরই, অর্থাৎ রাষ্ট্রেরই। স্বাধীনতা এসেছিল; সে স্বাধীনতা চলে গেছে বড় বড় মানুষের হাতে, সাধারণ মানুষের কাছে তা মোটেই নেই। কামরায় নেই, ঘরে নেই, বাড়িতে নেই। খুঁজে লাভ নেই, এমনভাবে আÍগোপন করেছে যে, কোনো গোয়েন্দা বাহিনীর পক্ষেই সম্ভব নয় তাকে ধরে এনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যদি না দেশে সমাজ বিপ্লব ঘটে।স্বাধীনতার জন্য মানুষ একসঙ্গে লড়েছে। স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছে, ছেচল্লিশে, সত্তরে এসে কেবল ভোটই নয়, যুদ্ধও করেছে। ঘরবাড়ি ঠিক হয়নি। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঘরবাড়ি তৈরির উদ্যোগই নেয়া হয়নি। কেবল কিছু সরকারি ঘর তৈরি করা হয়েছে কর্মচারীদের সাময়িক বসবাসের জন্য। ব্যস, ওই পর্যন্তই। অপরদিকে মানুষের সঙ্গে মানুষের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। গরিবদের মধ্যে তো অবশ্যই, ধনীদের মধ্যেও। তারা ইফতারে যে মিলিত হবে এটাও পারেন না, ইফতার পার্টির আয়োজন করতে হয়, তাতেও কাক্সিক্ষত মেলামেশাটা সম্ভব হয় না দেখে কেউ সেহরি পার্টিরও আয়োজন করেন বলে শুনেছি। সবটাই ঘটছে রাষ্ট্রের পুঁজিবাদী চরিত্রের কারণে। রাষ্ট্র ওই পথে স্বাচ্ছন্দ্যে এগুচ্ছে। পথ প্রশস্ত, সেখানে কোনো যানজটই নেই, বিভিন্ন বাহিনী, আইন-আদালত, বিচারব্যবস্থা সবই আগলে রেখেছে সুনির্দিষ্ট পথে রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে। ব্যক্তির পক্ষে রাষ্ট্রকে মানতে হয়, আর রাষ্ট্রের আদর্শ? সেটাকে উপেক্ষা করবে কোন দুঃসাহসী? ওই আদর্শ তো আবহাওয়ার মতো, সর্বত্র ব্যাপ্ত। রাষ্ট্র ঠিকানা দিয়েছে, আশ্রয় দিচ্ছে না, প্রবাসীদের কারও কারও বেলায় ঠিকানাটাই সরবরাহ করব সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে। কিন্তু শুধু ঠিকানা নয়, ঘর তো চাই, বাড়ি তো দরকার। তাহলে? পথ একটাই, পুজিবাদের পথ থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে এনে যথার্থ গণতান্ত্রিক অর্থাৎ সমাজতন্ত্রী হওয়ার পথে নিয়ে যাওয়া, মুক্তির লড়াইটাকে পুনর্জীবিত করা। কাজটা তারাই করবেন যারা হৃদয়বান এবং বুদ্ধিমান। যারা বোঝেন একের মুক্তি সবার মুক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং সবার মুক্তিও লুকিয়ে আছে একের মুক্তির মধ্যে। বহুতে এক আছে, একের ভেতরও বহুর থাকা চাই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s