বন্যা

বন্যা
অনেক দিন পর তোমাকে লিখতে বসেছি ,তুমি তো লিখই না । পড়ো কিনা তাও জানি না । অনেক দিন ধরে তুমি যে
প্রশ্নটি বারবার করে যাচ্ছ আমি কেন তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি । আমি কি ইচ্ছে করেই চলে গেছি ,নাকি তুমি আমাকে
যেতে বাধ্য করেছিলে । তুমি কিছু আত্মীয় স্বজনকেও দোষারপ করো ।আমি তোমাকে অনেকবার বলেছি কারো কোন হাত নেই ,তবুও
হয়তো নিজেকে সান্তনা দিতেই অন্যের উপর দোষারপ করা ।
তুমি ইচ্ছে করলেই পরিবারের সিদ্বান্তের অবাধ্য হতে পারতে না ,অবশ্য অবাধ্য হওয়ার মত ইচ্ছে আদৌ ছিল কিনা আমি আজো
ভাবি । আর সে জন্যই হয়তো তুমি বলেছিলে “তুমি যদি তোমার যোগ্যতা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াও আমার অমত থাকবে না ” ।
আজ এত বছর পরও আমি তোমার সেই সংলাপ ভুলিনি । যোগ্যতার ব্যাখ্যা কোনদিন পাই নি । অবশ্য পাইনি বললে ভুল হবে
তুমি যা বলেছিলে তার মানে ছিল তুমি যোগ্যতা চেয়েছে তোমার পরিবারের জন্য … আমি তোমাকে বলেছিলাম পরিবারের
সাথে আলাপ করে ভালোবাসলেই হয় ।
পরে অবশ্য তুমি আমাকে মান্না দের গানের উপর ভর করেই বলেছিলে “পার যদি ফিরে এসো” । আমি ফিরে আসিনি, ফিরে
আসতেও চাইনি হয়তোবা ।
তুমি তোমার পরিবারের পছন্দের ,যোগ্যতা সম্পন্ন পাত্রের সাথে তোমার বিয়ে দেওয়া হলো আর তুমিও আর দশটা লক্ষী
মেয়ের মত সেই সিদ্বান্ত মেনে নিয়েছিলে । অবশ্য তোমার বিয়ের দিন ক্ষন সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না । ইচ্ছে করেই
হয়তো তুমি বা তোমার পরিচত জনেরা আমাকে জানাতে চায়নি । পাছে আমি যদি … জানি না সেরকম ধারনা তোমার বা
তোমার পরিবারের ছিল কিনা । আমি তোমাকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম এখনো করছি …।
ভালোবাসা মানে আবীর বর্ন আদিত্য ।
তারপরও তুমি আমার বিয়েতে এসেছিলে । আমি তোমাকে ধন্যবাদ দেই সেজন্য,এটি আমি কখনো পারতাম না ।
একজন মানুষের অনেকের সাথে ভালোবাসা থাকতে পারে ,সেই সম্পর্ক ভেঙ্গেও যেতে পারে ।প্রত্যেক মানুষেরই সেরকম
কিছু অতীত থাকে … আমার স্ত্রী(যার সাথে আমি ভালোবেসেই সংসার গড়েছি) ,সন্তান ওরা জানে আমি একসময় তোমাকে
ভালোবাসতাম । আমার স্ত্রী বা সন্তানের এ নিয়ে কোন ঈর্শা নেই । অবশ্য তুমি যে সমাজে বাস করো সেখানে এরকম
পরপুরুষের (!)
উপস্থিতি অবাঞ্চিত ।তোমাদের কোন অতীত নেই ,তোমার স্বামীই একমাত্র পুরুষ যে তোমার দেহ মনের
একচত্র অধিকারী । তার আগে বা এমন কি পরেও তোমার জীবনে অন্য কেউ থাকতে পারে না ,আসতে পারে না ।

তুমি একদিন জানতে চেয়েছিলে আমি কখনো তোমাকে চুমো খেয়েছি কিনা ,ব্যাপারটি তোমারই মনে থাকার কথা ।
হয়তো নিশ্চিত হতে চেয়েছিলে … আমি সেদিনও তোমাকে বলেছিলাম । ।মৈত্রেয়ী দেবীর মা যেমন মির্চা
এলিয়াদ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন ” তোমরা কতদুর গিয়েছ ?”
জবাব ছিল “পুকুর ঘাট পর্যন্ত”।
আমরা ছিলাম সে রকম । ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা ,গান শুনা এর বাইরে যাওয়া হয়নি আমাদের।আমাদের দেখা হয়নি
কিছুই ।
কি জান জীবনটা হচ্ছে রেলগাড়ির কামরার মতো যাত্রা পথে কতো জনের সাথেই দেখা হয় ,তারপর যে যার গন্তব্যে নেমে
যায় । তবুও ভাল লাগা থাকে । নামার সময় যখন বলে ঊঠে আবার দেখা হবে শুনে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে ।যদিও
সেটা কথার কথা ।

আজ অনেক কথা লিখে ফেললাম ,জানি না তুমি ফেসবুক বা আমার লিখার সাইট দেখো কিনা(হয়তো পড়ার মতো সময়ই
নেই তোমার) ।
তবুও ভালো থেকো ,সুস্থ থেকো ।
রবি ঠাকুরের একটা গানের লাইন খুব মনে পড়ছে
“তুমি রবে নীরবে ,”
মিতা
৩/৯/২০১৪
চট্টগ্রাম ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s