ছুটির নিমন্ত্রন

bonnaবন্যা
কেমন আছ তুমি ? দুই সপ্তাহ আগে পাঠানো চিঠি এখনো পাওনি শুনে আবার কম্পিউটারে চেক করে যা পেলাম তাতে নিজেরই লজ্জা পাওয়ার কথা । তোমার নতুন ঠিকানা লিখতে গিয়ে আমি যে ভুল করেছি সে জন্যই হয়তো চিঠি পাওনি । তোমার নতুন ঠিকানায় নাম পদবী এমনকি রোড নম্বরেও ভুল ছিল না যা লিখিনি তা হচ্ছে তোমার অফিসের নাম ! বিদেশে হলে এরকম ভুলের পরো প্রাপকের কাছে ঠিকই পৌঁছে যেত । যে দেশে নাম ঠিকানা সঠিক থাকার পরও চিঠি পৌঁছে না, সেখানে আমার মত ভুল করা মানুষের চিঠি যে তোমার কাছে পৌছবে তা যে আকাশ কুসুম কল্পনা । তুমি অবশ্য পোষ্ট অফিসে খোঁজ নিতে লোক পাঠিয়েছিলে ,পেয়েছ কিনা জানি না ।
তোমাকে শেষ দেখার পর একমাস পার হয়ে গেল । মাঝে মাঝে এবার তোমার সাথে কাটানো সময় গুলো মনে করেই সময় কাটে ,তুমি যেমন বলো স্মৃতির জাবর কাটা । এবার বেশ মজার সময়ই কাটিয়েছি । তুমি না থাকলে এসব যায়গায় আমার যাওয়াই হতো না । তুমি আমাকে দেখাবে বলে রাতের অন্ধকারে নদী পারের চমৎকার স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা মনে পড়লে হাসিই পায় ,তুমি স্থানের নাম না জেনেও রওনা হয়েছিলে ,পরে অবশ্য অনেক ঘুরে আমরা পৌছেছি । তখন তোমার যাবার সময় হয়ে গিয়েছিল আর বেশী কিছু দেখা হয়নি । আমরা তখনো যানতাম না সেই স্থানের নাম । পরে তুমি আরেকদিন এসেছিলে ঘন্টা খানেকের জন্য সেদিনই আমি জেনেছিলাম স্থানটির নাম । এরপর আমি একা একা কয়েকবার গিয়েছি সেখানে বিকেলটা খুব সুন্দর কেটেছে সেখানে ।
আরেকদিন তুমি আমাকে নিয়ে চলে গেলে সমুদ্রের পাশ দিয়ে লংড্রাইভে ,ভালোই লেগেছিল । এমনিতেই অনেক মানুষের ভীড় আমার ভাল লাগে না আমরা সেই শরতের দুপুরে যখন সমুদ্রের পার ধরে গাড়িতে যাচ্ছিলাম পাশে সমুদ্রের হাওয়া এসে লাগছিল কি সুন্দর সময়টাই না কাটিয়েছিলাম । খুব বেশী সময় নয় তবুও মনে হয় এতোটা কাছে তোমাকে পেলাম । আমরা যখন ফিরছিলাম আকাশ আলকাতরা হয়ে আসছিলো তুমি চাইছিলে বৃষ্টি নামুক ,অনেক বৃষ্টি কিন্তু তোমার আরাধ্যের সেই বৃষ্টি আর নামেনি ,ভাবি সেই বৃষ্টি নামলে কেমন হতো ,তুমি হয়তো আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়েই পড়তে আর আমার বুকের মধ্যে এক অন্তহীন কান্নার ঝড় বয়ে যেত !
এবার অনেক বছর পর তোমার হাতের রান্না খেলাম । ঘটনার সুত্রটা ভালোই ছিল একদিন তোমার অফিসে গেলে খেয়ে যেতে বলেছিলে ,আর আমি তা প্রত্যাখান করে বললাম “তুমি রান্না করলে খেয়ে যেতে পারতাম , অফিসের রান্নার মতো কত নিমন্ত্রনই তো খাই প্রতিদিন এ আর নতুন কি ?”
তুমি বললে “কতজনকেই তো রান্না করে খাওয়াই কতভাবে ,কিন্তু যাকে সবচেয়ে বেশী খাওয়াতে চাই সেটাই কখনো হয় না ।”
বন্যা তুমি ঠিকই বলেছ , জীবনটা এমনই । তারপরো তুমি রেষ্টুরেন্টে তোমার রান্না খাবার নিয়ে এসেছিলে ,আমি মন ভরে খেলাম । কম করে হলেও সাত আট বছর পর তোমার হাতের রান্না খেলাম । আমার ধারনা ছিল না এরকম দামী রেষ্টুরেন্টে এভাবে চুরি করে নিজের রান্না খাওয়ানো যায় । ধন্যবাদ ।
আমার এখানেও শীত নেমে আসছে আস্তে আস্তে … আজ বছরের প্রথম তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে । ঋতু র পরিবর্তন খুব সহজেই বোঝা যায় । সপ্তাহ খানেক আগে তিনশ কিলোমিটার দূরে বেড়াতে গেলাম পাহাড়ের দিকে ই গাছের পাতা গুলো লাল হলুদ রং-এ পরিবর্তিত হয়েছিল ঝরে পরে যাওয়ার জন্য ,দিন রাত্রির তাপমাত্রার পরিবর্তনের জন্যই এমন হয় এরকম দৃশ্য আমাদের দেশে তুমি দেখতে পাবে না । আমি যখন একশ দশ কিলো স্পীডে গাড়ি চালিয়ে পাশের পাহাড় গুলোর দিকে দেখছিলাম , ভাবছিলাম তুমি যদি পাশে থাকতে কেমন হতো ,একবার চলে এসো না । জীবন বড়ো তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় । আমাদের কতো কিছু করার থাকে ,কটাই বা করা হয় । যে কোন সময় আমরা চলে যেতে পারি । এবার তোমার সাথে বেড়ানোর সময় এরকম কতো জনের চলে যাওয়া দেখলাম,তোমার মনে আছে কি সেসব দৃশ্য ?
আজ অনেক এলেবেলে কথা লিখে ফেললাম । ভালো থেকো । নিজের যত্ন নিও ।
মিতা
২২অক্টোবর ২০১৪

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s