চীন পারলে আমরা কেন পারব না

china.banglaযারা বলেন তাদের যেমন লজ্জা, যারা শোনেন তাদেরও লজ্জা। ভারত-পাকিস্তান ধর্মের ভিত্তিতে পৃথক হলেও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পৃথক হয়েছে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর ‘৪৮ সালেই বোঝা গেছে, পাকিস্তান বাংলা অঞ্চলের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। অধিকার দেবে না। অর্থনৈতিক মুক্তি পেতে দেবে না। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা দেবে না। ভাষার স্বাধীনতা, কলকারখানা প্রতিষ্ঠার স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি কোনো ক্ষেত্রেই বাংলা অঞ্চলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের শাসককুল আগ্রহী ছিল না। বরং যতভাবে শোষণ করা যায়, বৈষম্যের জাঁতাকলে বাংলা অঞ্চলের মানুষকে বন্দি করে ফেলা যায়, তার সব রকম চেষ্টা অব্যাহত ছিল। বৈষম্যের এ জাঁতাকল থেকে রক্ষা পেতে প্রথমে ভাষার সংগ্রাম করতে হয় পাকিস্তানের শাসককুলের বিরুদ্ধে। ভাষার সংগ্রাম থেকেই জন্ম নেয় স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম। প্রকারান্তরে বাংলা অঞ্চলের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে পৃথিবীর বুকে। পৃথিবীর মানচিত্রে জ্বলজ্বল করতে থাকে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মানচিত্র। সেসবই ৪৩ বছর আগের কথা। আর মাত্র ছয় বছর পর বাংলাদেশ উদযাপন করতে যাচ্ছে স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষ। অথচ এখনও আমরা শুনতে পাই_ ভারতের দালাল, পাকিস্তানের দালাল, চীন-আমেরিকা রাশিয়া-মধ্যপ্রাচ্যের দালাল_ এই শব্দরাজি। আরেকটু সুন্দর করে বললে বলতে হয়, আমরা একজন আরেকজনকে ক্রমাগত বলে যাচ্ছি, ভারত-পাকিস্তান-চীন-রাশিয়া-আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যপন্থি। আমি বলতে চাই, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও যারা এসব বলেন, তাদের যেমন লজ্জা হওয়া উচিত, একইভাবে আমরা যারা শুনছি, তাদেরও লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ ৪৩ বছরেও আমরা এ বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিকরা বাংলাদেশপন্থি হয়ে উঠতে পারিনি। এর চেয়ে লজ্জার, অপমানের আর কী থাকতে পারে!
ইতিহাসের বিতর্ক ইতিহাস করুক। ইতিহাসের সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য, ইতিহাসের লুপ্ত সত্য বের করে আনার জন্য বাংলা একাডেমির মতো ইতিহাস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। কেউ একজন কিছু একটা লিখলেই আর সব মিথ্যা হয়ে যাবে_ ইতিহাস এমন কথা বলে না। সত্যি-মিথ্যা প্রমাণের জন্য, প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য, প্রকৃত ইতিহাস স্বাধীন দেশের মানুষকে জানানোর জন্য ইতিহাস একাডেমি গবেষণার কাজ চালাবে। চিলে কান নিল, চিলে কান নিল বলে এমন হইহই রব আর কোনো জাতি করে না। আমরা করি। কারণ স্বাধীনতার ৪৩ বছরে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য এখনও অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। পারিনি বলেই অর্থনৈতিকভাবে আমাদের যতটুকু এগোনোর কথা ছিল সেটি সম্ভব হয়নি। এখনও আমরা জাতির পিতা, স্বাধীনতার ঘোষক_ এসব বিতর্কে নিজেদের ব্যস্ত রাখছি। একটি স্বাধীন দেশে যদি একটি ইতিহাস একাডেমি থাকত আর সেই একাডেমিতে দেশের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস গবেষকরা গবেষণা করে সত্য ইতিহাস প্রকাশ করতেন, তাহলে লন্ডনে বসে একজন বিতর্ক উসকে দেওয়ার জন্য কিছু বললে দেশের আর সবাইকে গেল গেল বলে রব তুলতে হতো না। অসত্য ইতিহাসকে মোকাবেলা করবেন দেশের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস গবেষকরা। একজন কিছু একটা বলে অহেতুক বিতর্ক তুলে অন্যদের বিভ্রান্ত করতে চাইলে তারও জবাব দেবে ইতিহাস একাডেমি। অথচ সেসব না করে আমরা প্রায় প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইচ্ছা-খুশিমতো মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছি, ব্যাখ্যা দিচ্ছি। রাজনীতির মাঠ গরম কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে অনেক কথা বলা হলেও আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করি_ জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে, জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে, বৈদেশিক সম্পর্র্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে পণ্য কীভাবে প্রসার লাভ করতে পারে তার স্বার্থে, বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি কীভাবে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে তার স্বার্থে সব দলের নেতারা একত্র হতে পারেন না। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও এমন নজির অকল্পনীয়। আমরা এখনও বিরোধ আর বিরোধিতায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত। বিরোধ-বিরোধিতা কখনও কখনও প্রয়োজন হলেও দেখা যাচ্ছে আমাদের বিরোধ-বিরোধিতা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে। দেশের স্বার্থে নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে নয়; দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে নয়। এসবই সম্ভব, যখন আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে বাংলাদেশপন্থি হয়ে উঠতে পারব। যেমন পারল চীন। অনেক বিরোধ-বিরোধিতার মধ্যেও চীনারা সব বিভেদ পাশে রেখে দেশের স্বার্থে, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে একসঙ্গে চীনা জাতি হয়ে উঠতে পেরেছে। পেরেছে বলেই আজ চীন পৃথিবীর প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলো।
দুই.
এক সময় চীন সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যেত না। কারণ দেশটিতে সবার যাওয়ার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। বিশ্ব থেকে চীন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। এর ঐতিহাসিক অনেক কারণও রয়েছে। এ লেখায় সেদিকে আলোকপাত থেকে বিরত থাকব। তার পরিবর্তে বরং চীনাদের পরিবর্তনের কথা বলা যাক। চেয়ারম্যান মাও সে-তুংয়ের মৃত্যুর পর চীনের অবিসংবাদিত নেতা তেং শিয়াও ফিং ১৯৭৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত চীনের নেতৃত্ব দেন। এই সময়-পর্বে চীনে মার্কেট ইকোনমি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মূলত চীনে মার্কেট ইকোনমির প্রবক্তা তেং শিয়াও ফিং। তার সেই মার্কেট ইকোনমিই আজ নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১ নম্বর অর্থনীতির মুকুট জয় করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত অর্থনীতির প্রায় ২০০ বছর আগে চীন ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ১৮২০ সালে বৈশ্বিক জিডিপির ৩০ শতাংশের মালিকানা ছিল চীনের হাতে। শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতি বাড়তে থাকলে দ্রুত পেছনে পড়ে যায় চীন। আর ১৮৭২ সালে যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে গত ৩৫ বছরের বাজার সংস্কার, দ্রুত শিল্পায়ন ও বিপুল শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগের শীর্ষ অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে চীন। ২০১০ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান অর্থনীতির দেশের মুকুট অর্জন করেছিল চীন। অবশ্য অর্থনীতিবিদদের ধারণা ছিল, ২০১৯ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলবে। ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এরই মধ্যে চীন শীর্ষস্থানে পেঁৗছে গেছে। এ কথা চীন নয়; জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাদের মতে, চীনের অর্থনীতির আকার এখন ১১ ট্রিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ১০ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন পাউন্ড। ২০১৯ সাল নাগাদ চীনের অর্থনীতির আকার হবে ১৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পাউন্ড। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছর পর চীনের অর্থনীতির আকার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়বে। ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গত সাড়ে তিন দশকে চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপি) ভিত্তিতে অর্থনীতির এ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমপরিমাণ অর্থে কোন দেশে বেশি পণ্য কেনা যায় তার ভিত্তিতে পিপিপি নির্ধারণ করা হয়। দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনে পণ্য সস্তা হওয়ায় পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জিডিপির আকার বা অন্যান্য দিক বিবেচনায় চীনের তুলনায় এখনও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির আকার ১৬ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আর চীনের জিডিপির আকার ১০ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তা সত্ত্বেও একটি মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে চীনের ১ নম্বরে অবস্থান নেওয়াকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘প্রতীকী ক্ষণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ চীন এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ রফতানিকারক, সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় সঞ্চয়কারী দেশ। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের
তথ্যমতে, এক দশক ধরে চীনের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির গড় হার মাত্র আড়াই শতাংশ। চীনের মুদ্রা ইউয়ান প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে শক্তিশালী হচ্ছে। গত এক দশকে চীনের অর্থনৈতিক উত্থান তাক লাগানোর মতো। ২০০৫ সালে চীনের অর্থনীতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম। কিন্তু ২০১১ সালেই চীনের অর্থনীতির আকার দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ৮৭ শতাংশের সমান। আগেই বলেছি, চীনের এ উত্থানের পেছনে কাজ করেছে মাত্র সাড়ে তিন দশকের শিল্পায়ন। ১৯৭৮ সালে তেং শিয়াও ফিংয়ের নেওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারনীতির পর থেকেই চীনের অবস্থা দ্রুত পাল্টাতে থাকে। ওই নীতির মাধ্যমে চীন সরকার মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বৈদেশিক বাণিজ্যেও বরাদ্দ রেখেছিল প্রচুর। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য জমির মালিকানা দেওয়া ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছিল চীন সরকার। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ সরাসরি বাজারে বিক্রি করার সুযোগ পান। দেশটির উপকূলবর্তী চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয় অর্থনৈতিক জোন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রফতানি বাড়ানো ও প্রযুক্তি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি। সংস্কারের অংশ হিসেবে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের কাছে। স্থানীয় সরকার মুক্তবাজার নীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো পরিচালনা করে। সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের প্রণোদনা। মূলত চীনের এ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির কারণ হিসেবে দুটি বিষয় চিহ্নিত করা যায়। উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃহৎ অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি চীনের অর্থনীতিকে ঊধর্ে্ব তুলে ধরেছে। এর সঙ্গে বড় ভূমিকা রেখেছে অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ। সংস্কারনীতি গ্রহণের পর চীন তার জিডিপির প্রায় ৪৮ শতাংশ ব্যয় করে কারখানা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও অবকাঠামো নির্মাণে।
তিন.
এখন কথা হলো, চীন পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? কিছুকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নেতা ও প্রতিনিধিদের মুখে শুনতে পাওয়া যায়_ এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ হবে অর্থনীতির বাঘ। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার প্রচেষ্টার কথা শোনা যায়। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন, ব্যক্তি পর্যায়ে কলকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি_ সবকিছুর আয়োজন থাকার পরও কেন বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরে যাচ্ছেন? কেন ব্যক্তি পর্যায়ে দেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন? কেন অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে না? কেন কৃষক হাড়ভাঙা পরিশ্রমে প্রচুর শস্য উৎপাদনের পরও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না? এসব বিষয় বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, আমাদের মধ্যে স্বাজাত্যবোধের অভাব। দেশপ্রেমের অভাব। বিরোধ-বিভেদে আমরা বহুধাবিভক্ত হয়ে একে অপরের ধ্বংস প্রত্যাশা করি। কেউই দেশের প্রয়োজনে, উত্তর-প্রজন্মের প্রয়োজনে, দেশের সমৃদ্ধির প্রয়োজনে এককণ্ঠে কথা বলতে পারি না। বহু সম্প্রদায়ের দেশ বাংলাদেশ। তারপরও আশ্চর্য রকম সহনশীলতা রয়েছে আমাদের মধ্যে। আমাদের দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক নন। আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমীও। এখন প্রয়োজন এমন একজনের, যিনি বিরোধ-বিভেদের কথা বলবেন না। বলবেন দেশপ্রেমের কথা। বলবেন ঐক্যের কথা। বলবেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা। যার কথায় পুরো জাতি একত্র হয়ে এককণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় অংশ নেবে। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন বাংলাদেশপন্থি হবে, সেদিনই শুধু বাংলাদেশ এশিয়ার অর্থনীতির বাঘ হতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s